Skip to content

হাইব্রিড গাড়িতে যে ৫ টি ভুল করবেন না 

বাংলাদেশে বর্তমানে হাইব্রিড গাড়ির(Hybrid Car) জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। পরিবেশবান্ধব, ফুয়েল সাশ্রয়ী এবং প্রযুক্তিনির্ভর এই গাড়িগুলো অনেকের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। শহরের রাস্তায় এসব গাড়ির উপস্থিতি এখন বেশ দৃশ্যমান। নতুন প্রযুক্তির এই গাড়িগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের নিয়ম অনেকের কাছেই অজানা। সামান্য ভুলও হাইব্রিড গাড়ির পারফরম্যান্স(Performance) নষ্ট করতে পারে, সাথে আপনার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, হাইব্রিড গাড়িতে যে ৫টি ভুল কখনোই করা উচিত নয়।

১. ব্যাটারিকে অবহেলা করা 

হাইব্রিড গাড়ির হাই-ভোল্টেজ ব্যাটারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। অনেকেই মনে করেন ব্যাটারি সহজে নষ্ট হবে না কিংবা আজীবন টিকবে এগুলো। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক তেমন না। অতিরিক্ত গরম, ঠাণ্ডা কিংবা অনিয়মিত ব্যবহার ব্যাটারির আয়ু(longevity) কমিয়ে দেয়।

যা করবেন না:

-লম্বা সময় গাড়ি বন্ধ রেখে ব্যাটারি 

নিষ্ক্রিয় রাখবেন না।  

-গাড়ি সরাসরি রোদে পার্ক করবেন না। 

যা করবেন: 

– সপ্তাহে অন্তত একবার ২০-৩০ মিনিট গাড়ি চালান।

– ব্যাটারি চার্জ ৩০%-৮০% এর মধ্যে রাখলে ভালো।

২. সাধারণ মেকানিক দিয়ে সার্ভিস করানো

হাইব্রিড গাড়ির(Hybrid Car) গঠন ও ইলেকট্রিক(Electronic) সিস্টেম অন্যান্য গাড়ি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এক্ষেত্রে দেখা যায়, সাধারণ মেকানিকরা বেশিরভাগ সময় এই গাড়ির ইনভার্টার, ব্যাটারি কন্ট্রোল মডিউল বা রিজেনারেটিভ ব্রেকিং(Regenerative Braking) সিস্টেম ঠিকভাবে বুঝতে পারেন না। পরবর্তীতে সামান্য ভুলের জন্যই গুনতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

যা করবেন না:

-অনভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে গাড়ি মেরামতের চেষ্টা করবেন না। 

-ইলেকট্রিক কম্পোনেন্ট নিজে খুলতে যাবেন না কিংবা ওয়াশ(Wash) করবেন না।    

যা করবেন: 

-সার্ভিসের জন্য সর্বদা হাইব্রিড সার্টিফাইড টেকনিশিয়ান বেছে নিন। 

-সম্ভব হলে কোম্পানি অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে যান।  

৩. ভুল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা

হাইব্রিড গাড়ির ইঞ্জিন নিয়মিত পেট্রোল গাড়ির মতো কাজ করে না; মাঝে মাঝে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে ব্যাটারি মোডে চলে যায়। সঠিক ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার না করলে ইঞ্জিনের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এতে ইঞ্জিনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।     

যা করবেন না:

– “10W 40″ গ্রেডের বা নিম্নমানের অয়েল ব্যবহার করবেন না।

– অতিরিক্ত সময় ধরে পুরনো অয়েল রাখবেন না।      

যা করবেন: 

– কোম্পানির নির্ধারিত Low-Viscosity Hybrid Grade Oil ব্যবহার করুন।   

– প্রতি ৬,০০০- ৮,০০০ কিলোমিটারে অয়েল পরিবর্তন করুন।  

৪. রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেমকে ভুলবাল ব্যবহার করা  

হাইব্রিড গাড়িতে ব্রেক করলে শুধু থামানোর কাজে ব্যবহার হয় না। ব্রেকের শক্তি দিয়েই ব্যাটারি চার্জ হয়-এটাই “রিজেনারেটিভ ব্রেকিং (Regenerative Braking)”। কিন্তু অনেকেই হঠাৎ জোরে ব্রেক করেন বা ব্রেক ধরে রাখেন, যার ফলে ব্যাটারির চার্জিং প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

যা করবেন না:

-হঠাৎ ব্রেক করা বা ব্রেক ধরে রাখার অভ্যাস করবেন না।     

যা করবেন: 

-ধীরে ধীরে ব্রেক করুন, যাতে ব্যাটারি কার্যকরভাবে চার্জ হয়।    

-ট্রাফিকের মাঝে “Eco Mode” ব্যবহার করুন, এতে ব্যাটারি ও ব্রেক দুটোই দীর্ঘস্থায়ী হয়। 

৫.সফটওয়্যার আপডেট ও ডায়াগনস্টিক এড়িয়ে যাওয়া  

হাইব্রিড গাড়ি(Hybrid Car) মূলত সফটওয়্যার-নির্ভর। ব্যাটারি, রিজেনারেটিভ ব্রেকিং, সেন্সর, ইঞ্জিন কন্ট্রোল ইত্যাদি সফটওয়্যারের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই সময়মতো আপডেট(Update) না করলে পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে এবং সমস্যা ধরা পড়তে দেরি হয়।

যা করবেন না:

-সফটওয়্যার আপডেট এড়িয়ে যাবেন না।    

যা করবেন: 

-নিয়মিত ডায়াগনস্টিক চেক ও সফটওয়্যার আপডেট করান।    

হাইব্রিড গাড়ি ঠিকভাবে ব্যবহার করলে যেমন জ্বালানি সাশ্রয় করে, তেমনি দীর্ঘদিন নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স দেয়। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে ১২-১৫ বছর ঝামেলা ছাড়াই ব্যবহার করা যায় হাইব্রিড গাড়ি (Hybrid Car)। উপযুক্ত যত্নে এই গাড়িগুলো হয়ে উঠতে পারে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী সমাধান।

  

গাড়ির নিরাপত্তায় ফাইন্ডার সম্পর্কে জানতে
গাড়ির নিরাপত্তায় ফাইন্ডার সম্পর্কে জানতে